দুই বার বহিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন

সময় ট্রিবিউন | ৩ জুন ২০২২, ১২:১০

ছবিঃ সংগৃহীত

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন রায়পুরের রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান। এরপর ২০১১ সালে রায়পুর পৌর মেয়র নির্বাচনে নিজেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন পাঠান। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বাবুল পাঠানকে তখনও বহিষ্কার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় দুইবার বহিষ্কার হওয়া সেই রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করেছে জেলা আওয়ামী লীগ যা সাংগঠনিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩১ মে) প্রায় ২০ বছর পর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে উপজেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদকে সভাপতি ও রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সম্মেলনের শেষে কমিটির নেতাদের নাম ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের ২০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন (দুলাল) এর সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করেন। সেই সভায় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকনকে বহিষ্কার করা হয়। একইসাথে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সহযোগিতা করায় রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে অব্যাহতি দিয়ে বহিষ্কার করা হয়। এখানেই শেষ নয়। সেই সময়ে নৌকার প্রার্থী হারুনুর রশিদের বিরোধীতা করে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেন রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান।

এরপর ২০১১ সালে রায়পুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন বাবুল পাঠান। পরে ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তৎকালীন লক্ষ্মীপুর জেলা ও রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ৮ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানের বিরুদ্ধে ভূমি দস্যুতার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মেয়র থাকাকালীন সময়ে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে গুম করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্রোহী ও বিতর্কিতদের আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকার পরও দল থেকে দুইবার বহিষ্কার হওয়া বাবুল পাঠানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বিবার্তাকে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ তাকে অব্যাহতি দিয়েছিলো। তিনি পরবর্তীতে ক্ষমা পেয়েছেন। ২০১৫ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হয়ে অদ্যাবধি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, রায়পুরের নেতা-কর্মীদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে বাবুল পাঠানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিঞা মো. গোলাম ফারুক পিংকু বিবার্তাকে বলেন, ২০১১ সালে উনি (বাবুল পাঠান) যখন নির্বাচন করেছিলেন তখন নৌকা প্রতীক ছিলো না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। পরে জেলা আওয়ামী লীগ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলো।

তিনি বলেন, এছাড়া নৌকা প্রতীকে নির্বাচন ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এ ধরনের (বিদ্রোহীদের পদ না দেয়ার) সিদ্ধান্ত তখন থেকে কার্যকর হয়েছে।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এতে তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী সভাপতি ও ইসমাইল খোকন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিন বছর মেয়াদি গঠিত উপজেলা কমিটি ছিলো ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট। ২০১৭ সালের ১৪ মে মেয়াদোত্তীর্ণ রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী দুলাল মারা যান। নিয়ম অনুযায়ী ২০০৫ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হওয়ার কথা থাকলেও নতুন কমিটি পায়নি রায়পুর আওয়ামী লীগ। যার ফলে গেলো দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছিলো উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


  1. বাংলাদেশ আজ কোন পথে : মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক ধস এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপরিহার্যতা
    বাংলাদেশ আজ কোন পথে : মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক ধস এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপরিহার্যতা
  1. যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
    যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
  1. ছয় মাসের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ
    ছয় মাসের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ
  1. ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী
    ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী
  1. দেশ ধ্বংসের কারিগর জুলাই আন্দোলন : শিল্পীদের ভূমিকা ও তালিকা
    দেশ ধ্বংসের কারিগর জুলাই আন্দোলন : শিল্পীদের ভূমিকা ও তালিকা
  1. ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর
    ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর
  1. নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব
    নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব
  1. ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে ব্যয়
    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে ব্যয়
  1. সুনামগঞ্জে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কা
    সুনামগঞ্জে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কা
  1. ঢাকায় নতুন আরও চার থানা চালুর পরিকল্পনা পুলিশের
    ঢাকায় নতুন আরও চার থানা চালুর পরিকল্পনা পুলিশের