ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর

সময় ট্রিবিউন | ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০৬

ছবি - সংগৃহীত

ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠনের জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ অর্থ জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দ দিতে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের ভাষ্য, ব্যাংক খাতের মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গত কয়েক বছরে লুটপাট ও পাচার হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেনের প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংক খাতের সংকটের চিত্র তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁরা দেখেছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই। বিগত বছরগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও পাচার হয়েছে। এতে দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের ক্ষতি ও কাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ আমানতকারীরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ও বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছেন। জনগণের অর্থ লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা সমাধান করা বড় চ্যালেঞ্জ।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রতিবছর যে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, তা দিয়ে সরকার চাইলে প্রতিবছর দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারত অথবা প্রায় দুই কোটি পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিতে পারত। অথচ কয়েকজনের লুটপাটের ক্ষতি পূরণ করতে হচ্ছে জনগণের করের টাকা দিয়ে। এর দায় বহন করতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘদিনের সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে। আমানতকারীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঋণখেলাপিদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধে ঋণখেলাপিদের সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে ২০২৭ সাল থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বাংলা কিউআর লেনদেনের গুরুত্ব তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের লক্ষ্যের তুলনায় দুই লাখ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। সারা দেশে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন পুরোপুরি চালু করা গেলে রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে। বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন কার্যকর করা গেলে এ অনুপাত ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের প্রকৃত লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে দেখায় না। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লে কেনাবেচার হিসাব আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসবে, ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে গভর্নর বলেন, আধুনিক লেনদেনব্যবস্থায় সন্দেহজনক ও অবৈধ লেনদেন শনাক্ত করার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। বাংলা কিউআর ব্যবস্থাও নিরাপদ।

অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিঞা, ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহিত রহমানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এখন থেকে ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু পরিশোধে শিক্ষার্থীরা বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও স্টল নিয়ে অংশ নেয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


জনপ্রিয় খবর