‘বাঙালীর সাংস্কৃতিক মুক্তি’

জি.বি.এম রুবেল আহম্মেদ | ৭ আগস্ট ২০২২ ১১:০৭

সংগৃহীত সংগৃহীত

বাঙলীর জাতিসত্তাকে মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই বাঙালী লালন করতো। আর এ সত্তাকে তারা হরণ করতে চেয়েছিল বলেই, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। বাঙালীর জাতি সত্তা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য। কারন, আমাদের বড় পরিচয় আমরা বাঙালী। আর তাই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি বাঙালী, আমি মুসলমান। আমি চাই এদেশের মানুষের মুক্তি, সাংস্কৃতিক মুক্তি ও অর্থনৈতির মুক্তি’।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালীর মুক্তি হয়েছে। অর্থনৈতিকও মুক্তি চলমান। গত তিন দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধিতে উন্নয়নশীল দেশের গড় হারের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। 

কিন্তু সাংস্কৃতিক মুক্তি কতটা অগ্রসর? 

কবিগুরু রবীন্দনাথ ঠাকুর বলেছেন, 

‘সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি’।

কবিগুরুর বাণীটা সেদিন সত্য ছিল না । বঙ্গবন্ধুু বলেন- ‘আমার বাঙালি আজ মানুষ, আমার বাঙালি আজ দেখিয়ে দিয়েছে; দুনিয়ার ইতিহাসে স্বাধীনতার সংগ্রামে এত লোক জান দেয় নাই’। সেই ভাষণেই বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, ‘জানতাম না আমার ফাঁসির হুকুম হয়ে গেছে। আমার জেলের পাশে আমার জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিল। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম; আমি বলেছিলাম, আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান; একবার মরে দুইবার মরে না’ ।

আমি বলেছিলাম, ‘আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাবো, আমার বাঙালি জাতকে অপমান করে যাবো না! তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না’ ।

আমি মনে করি, এটাই সাংস্কৃতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য সাত কোটি বাঙালীকে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছিলেন। তাঁর এমন বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েই ৩০ লাখ শহীদ জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। এর থেকে বড় সংস্কৃতির মুক্তি আর কিছু হয় না। কারন, সংস্কৃতি মানেই অগ্রসর ভাবনা, সত্যের মুক্তি ও শৃঙ্খলা। কিন্তু সমাজের কিছু ধর্মান্ধ ষড়যন্ত্রীরা তাদের কুসংস্কার,কূপমণ্ডূকতা ও সংকীর্ণতায় বিরোধিতা করে ধর্মের দোহাই দিয়ে। তারা এদেশের সংস্কৃতিকে গলায় রশি দিয়ে টেনে ধরতে চায়। আজ থেকে ২০ বছর পরে যদি ভাবি, দেখা যাবে আমরা আমাদের নিজের বাঙালী সত্তাকে ভুলে যাবো, ভুলে যাবো নিজেকে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের এই শিক্ষা দেয়নি। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ সেজন্য হয়নি। এদেশকে রক্ষা করা যেমন জরুরী এদেশের সংস্কৃতি (পরিচয়) ধরে রাখাও আমাদের অত্যন্ত জরুরী। 

বাঙালী এখনো সংস্কৃতিকে বুকে লালন করে চলে। তাই আমরা ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্ষাকালে বর্ষার গান গাই, বসন্তে বসন্তের গান গাই, নাচি, বৈশাখে বৈশাখীর ঐতিহ্য ধরে রাখি। শাড়ি, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবী পরিধান করি। ঋতুর আবর্তনের সাথে মানুষের যে পরিভ্রমণ সেটাই আমাদের সংস্কৃতি। 

কিন্তু ৭৫ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশকে আবারও ঐ ঘাতকরা অরাজকতা করার প্রয়াস চালাচ্ছে। ‘সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি’- কবি গুরুর বাণীটাই আজ সত্য হয়েছে। দেশের মঙ্গল তারা সহ্য করতে পারছে না। দেশের অর্থনৈতিক, চলমান প্রেক্ষাপট না বুঝেই সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে কথা বলছে, আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। তিল কে তাল বানিয়ে দেশের বদনামে উঠে বসে লাগচ্ছে। এতে ক্ষতি কাদের? দেশ ও দশের। এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। 

একটি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে- এটাই সত্য এটাই স্বাভাবিক। তা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমাদের মেনে নেওয়াটাই আমাদের সংস্কৃতি চর্চার একটি ধাপ। দেশের চলমান পরিস্থিতি বুঝা ও মেনে চলাও একটি সংস্কৃতি। 

সাংস্কৃতিক চর্চার ঘাটতি এখনো আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সাংস্কৃতিক চর্চা মুক্তি পাক, অর্থনৈতিকভাবে এদেশ এগিয়ে যাক। 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: