ছাত্রলীগের কমিটি - তীর্থের কাকের প্রাপ্তি ও তার মূল্যায়ন

আসীর মুরাদ তালুকদার | ২ আগস্ট ২০২২ ১০:৩৮

সংগৃহীত সংগৃহীত

অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত কেন্দ্রীয় কমিটির সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়েছে। তীর্থের কাকের মত বছরের পর বছর পরিচয়হীন ত্যাগী, যোগ্য ও পরিশ্রমী হল ক্যান্ডিডেট ও বঞ্চিতরা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু বুঝে পেয়েছেন, ফলশ্রুতিতে রাজনীতির ময়দানে অনেকটাই তৃপ্তির সুবাতাস বিরাজমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি জায়গা থেকেই যেমন শেখার সুযোগ রয়েছে, তেমনি এবারের হল কমিটির ক্যান্ডিডেটদের কাছ থেকে কিভাবে ধৈর্যের পরীক্ষায় পরিশ্রমের সাথে দাঁত কামড়ে লড়ে যেতে হয় তা শেখা উচিৎ। হ্যাটস অফ ব্রাদারস!

পদ ব্যক্তির মর্যাদা নিরুপণ করে না সত্য, তবে পরিশ্রমী, যোগ্য ও সংগঠনের জন্য নিরন্তর ঘাম ঝরানো মানুষগুলো যখন পরিচয়হীন থাকে তখন তা সংগঠনের সৌন্দর্যকে ম্লান করে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী হওয়াই যেখানে অনেক বেশি গৌরবের বলে বিবেচিত, সেখানে সংগঠনের যেকোনো পদই যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যখন যোগ্যরা তাদের পরিশ্রমের অর্জন হিসেবে ন্যূনতম স্বীকৃতি পেয়ে যায়, কেবল তখনই নিজের যোগ্যতাবলে স্বপদকে অলংকৃত করতে সচেষ্ট হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপাকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের 'সভাপতি' পদ যতটা না মহিমান্বিত করে, তারচেয়ে তাঁর যোগ্যতাবলে এই পদকে তিনি অধিকতর অলংকৃত করে রেখেছেন। যখন আপনি আপনার পরিশ্রমের ফসল স্বরূপ 'ন্যূনতম পরিচয়' পেয়ে যাবেন, তখন স্বপদকে গ্লোরিফাই করার দায়িত্ব স্বভাবতই আপনার উপরেই বর্তায়। দলের সুসময়ে উড়োচিঠির মাধ্যমে হাজারটা সুবিধাবাদী খাম পেতে পারে, হয়ত এও রাজনীতির অংশ কিংবা বাস্তবতা, কিন্তু সেই মিছিলে একজন পরিশ্রমীও যেন নিরাশ না হয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে সকলের এটুকুই অকুণ্ঠ প্রত্যাশা।

অপরদিকে সিনিয়রদের চেয়ে জুনিয়ররা পরিশ্রম, যোগ্যতা ও মেধার দাপটে ভাল পদ পাবে, তাই স্বাভাবিক এবং চিরন্তন। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার মানদণ্ডে এও এক প্রকারের রাজনীতির রীতি। কিন্তু সমান পরিশ্রম ও যোগ্যতা থাকার পরেও, কিংবা কোনোক্ষেত্রে সিনিয়রদের চেয়ে খানিক কম সাংগঠনিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও যখন জুনিয়রদের উপরের পদে আদিষ্ট করা হয় তখন তা সংগঠনের চেইন অফ কমান্ডকে হুমকিতে ফেলে দেয়। 'সাংগঠনিকভাবে বেশি/কম গুরুত্বপূর্ণ' বিষয়টি নিয়ে হয়ত তর্কের সুযোগ থাকতে পারে, তবে বাস্তবতার নিরিখে হল কিংবা রাজনীতির মাঠে হালকা নিরিখ করলেই এর সত্যতা উপলব্ধি করা কঠিন হবেনা। কেন্দ্রীয় কমিটির মত গুরুত্বপূর্ণ পদ বিতরণের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার কারণে যদি চেইন অফ কমান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন প্রাপ্তির আনন্দের চেয়ে নৈরাশ্য সৃষ্টির সুযোগ পরিলক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের এক্ষেত্রে আরও অধিকতর যত্নবান ও সচেতন হওয়াই বোধকরি সমীচীন ছিল। যেকোনো সংগঠনের চেইন অফ কমান্ডে যদি অন্যায্যভাবে চিড় ধরে সেক্ষেত্রে তা সংগঠনের ভিতকে নাড়িয়ে দিতে পারে সময় ও পরিস্থিতিভেদে।

পরিশেষে এত বৃহৎ একটি ছাত্রসংগঠনের কর্মী মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চিতদের দীর্ঘশ্বাসের অবসানই এখন মূখ্য ও স্বস্তির। সকলের এই সাংগঠনিক পরিচয় যেন আগস্ট মাসের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে সহায়তা করে; এবং দলের দুঃসময়ে মুজিব রণাঙ্গনের প্রদীপ্ত যোদ্ধা হয়ে আগামীর দিনগুলোতে 'রাজপথে' এবং বর্তমান সরকারের কল্যাণে প্রযুক্তির সম্প্রসারণের যুগে 'অনলাইনেও' সরব ভূমিকা থাকে এমনটাই প্রত্যাশা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

(ব্যক্তিগত অভিমতের চেয়ে কমিটি ঘোষণার পর বিবিধ স্তরের আলোচনা সমালোচনার পর্যালোচনাই উপর্যুক্ত বিশ্লেষণীতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পক্ষে বিপক্ষের যেকোনো মতামতই সানন্দে গ্রহণযোগ্য।)



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: