স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭টি ফাইল গায়েব: ৬ কর্মচারী আটক

সময় ট্রিবিউন | ৩১ অক্টোবর ২০২১ ২১:১৩

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-ফাইল ছবি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭টি ফাইল খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ৬ কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার দুপুরে সচিবালয় থেকে তাদের সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে এখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছি। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিন সকাল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ২৯ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালায়।

জানা যায়, কম্পিউটার অপারেটর জোসেফ বুধবার রাতে এই কক্ষের লকারে ফাইলগুলো রেখে গিয়েছিলেন। সকালে তালা খুলে দেখতে পান ফাইলগুলো নেই।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ১৭টি ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। আজ সকালে সিআইডি কর্মকর্তারা সচিবালয়ে তদন্ত করতে যান।

১৭টি হারানোর ঘটনায় গতকাল ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহ আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অপর ২ সদস্য হলেন—মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) মো. আহসান কবির ও উপসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আবদুল কাদের।

হারানো ফাইলগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ক্রয় সংক্রান্ত।

এর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজের কেনাকাটাসংক্রান্ত ফাইল, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, নিপোর্ট অধিদপ্তরের কেনাকাটা, ট্রেনিং স্কুলের যানবাহন বরাদ্দ ও ক্রয়সংক্রান্ত নথি।

এ ছাড়া নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ফাইলও হারিয়েছে।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, ফাইলগুলো যে কক্ষে রাখা ছিল সেখানে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইনের তত্ত্বাবধানে ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২ এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই কক্ষে বসেন সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ও কম্পিউটার অপারেটর মো. জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: