ময়লা অপসারণে নেই তদারকি

ময়লা বানিজ্যে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন কাউন্সিলর লাকী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট ২০২২ ১৮:০০

সংগৃহীত সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসা-বাড়ি, দোকান ও মার্কেটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে ঠিকমতো গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহ করছে না কাউন্সিলরের লোকজন। পর পর দুবার টেন্ডার নিয়ে ময়লার বানিজ্য শুরু করেছেন মহিলা কাউন্সিলর নিলুফা ইয়াসমিন লাকী।

ময়লার বানিজ্য করলেও ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে না জনসাধারণ। ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরকে নিয়ে সাধারনের মধ্যে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাসাবাড়িতে দিনের পর দিন ময়লা না নেয়ার পর ও কোনো তদারকি না করা, চড়া দামে দোকান পাট ও বাসাবাড়ির বিল ধার্য করা, সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি ময়লা নেয়া। বহুতল ভবনে না উঠাসহ নানাবিধ অভিযোগ। বাজারের হোটেল ও দোকানপাট হতে ১০০০-৫০০০ টাকা জোরপূর্বক নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নিলুফা ইয়াসমিন লাকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিএনপি- জামাতের পৃষ্ঠপোষকদের দিয়ে ময়লার বিল সংগ্রহ করা এবং তাদেরকে বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ স্থানে পরিচয় করিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগের কর্মী বলেন, কাউন্সিলর নিলুফা ইয়াসমিন লাকী যেখানে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সেখানে তিনি কীভাবে বিএনপি-জামাতের সাথে জড়িতদের দিয়ে বর্জ্যের দায়িত্ব দেয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বিভিন্ন সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের বদলে বিএনপি নেত্রীর নাম কয়েকবার উচ্চারণ করে বির্তকিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

জানা যায়, প্রাথমিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ হতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এলাকাভিত্তিক ভ্যান সার্ভিসের অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বিভিন্ন সময়।

বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে অভিযোগ দিয়ে ও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না নাগরিকগন।ডিএসসিসির ৬৬ নং ওয়ার্ডে টেন্ডার পাওয়া নিলুফা ইয়াসমিন লাকীর লোকজন ঠিকমতো গৃহস্থালির ময়লা অপসারণে নেই কোনো উদ্যােগ। ফলে ভোগান্তিতে সর্বসাধারন। ঈদের সময় হলে জনসাধারণের ভোগান্তি কয়েকগুন বেড়ে যায়।

ঠিকমতো বাসাবাড়ির ময়লা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ডগাইর বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, গত কয়েকদিন যাবত বাসাবাড়ির ময়লা পরিস্কার কর্মীরা নেয় না, এতে ভোগান্তিতে আমরা। সপ্তাহে ৩-৪ দিনের বেশি ময়লা নেয় না।বিভিন্ন সময় ময়লার কর্মীরা বাজে ব্যবহার ও করে। যখন মাস শেষ হয় তখন ঠিকই ময়লার বিলের জন্য চলে আসে।

রোকেয়া আক্তার নামে এক গৃহকর্মী জানান, কয়েকদিন যাবত ময়লা নিচ্ছে না, কোথায় ময়লা ফেলবো এখন, ময়লার গন্ধে থাকা যায় না ঘরে। কমিশনার হয়ে শুধু টাকাই দেখছেন উনি তার উপর বানিজ্য শুরু করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন জানান, ময়লার টেন্ডার নিয়ে নারী কাউন্সিলর বানিজ্য করছে, তিনি চড়া দামে এলাকা ভিত্তিক প্রভাবশালী মহলের কাছে বিক্রি করে এখন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। তার কর্মকান্ডে সবাই ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়লার টেন্ডার পাওয়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নিলুফা ইয়াসমিন লাকীর মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায় নি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: