মেসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ৪ অক্টোবর ২০২২ ১২:০৩

সংগৃহীত সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে বশির উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক নারীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে উত্ত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পাঁচ দিন আগে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বশির দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মন্ডল পাড়া গ্রামের ছামছুল হকের ছেলে। গত তিন-চার মাস আগে স্থানীয় এক নারীর ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠান বশির। বিষয়টি বশিরের পরিবারকে জানিয়ে কোনও সমাধান না পেয়ে তাকে ফেসবুকে ব্লক করে দেন।

পরে বশির নামে-বেনামের আইডি থেকে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। এর মধ্যে ওই নারীর ভাতিজিকে একইভাবে উত্ত্যক্ত করেন। তাকে এসব থেকে বিরত থাকার কথা বললে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তারা। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিন হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ বলেন, ‘মেসেঞ্জারে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে আমাকে কুপ্রস্তাব দেয় বশির। তার পরিবারকে বললেও কোনও কাজ হয়নি। পরে বশিরের আইডি ব্লক করি। এরপর অন্য আইডি খুলে আমাকে বিরক্ত করতে থাকে। কয়েকদিন ধরে আমার ভাতিজিকেও একইভাবে বিরক্ত করছে। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করলেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছি না।’

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই পরিবারের এক সদস্য। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না জানিয়ে অভিযোগকারী বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও মামলা নেয়নি, কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি। আমরা তাহলে কার কাছে যাবো। ’

তিনি আরও বলেন, ‘বশিরের ভাবি পুলিশে চাকরি করেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে মনে হচ্ছে। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বশির।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বশির উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন ওই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রুহুল আমিন। তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগটিতে ভুক্তভোগী পরিবার সম্মানহানির অভিযোগ করেছে। এজন্য আমরা তদন্ত করে জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অভিযোগ পাওয়ার পাঁচ দিনেও জিডি নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন বলেন, ‘এখনও নেওয়া হয়নি। তদন্ত করে জিডি নেবো।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করা আইনের লঙ্ঘন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলা না নেওয়া একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা তিন মাসের বেতন জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।’

তদন্ত করে জিডি নেওয়ার বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘সেক্ষেত্রেও আগে জিডি রেকর্ড করে তদন্ত করতে হবে।’

উলিপুর থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমি রবিবার বিকালে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: