ঝিকরগাছায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নৈশপ্রহরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি | ১৫ আগস্ট ২০২২ ০০:৫৩

সংগৃহীত সংগৃহীত

যশোরের ঝিকরগাছায় নৈশপ্রহরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতদল নৈশপ্রহরীদের হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কসটেপ পেঁচিয়ে একটি ব্যাটারির দোকানে লুট করে।

রোববার ভোররাতে আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঝিকরগাছা বাজারের রাজাপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নৈশপ্রহরী আব্দুস সামাদ (৭০) ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের বেড়েলা গ্রামের মৃত তুরফান মোড়লের ছেলে। 

ঝিকরগাছা থানা পুলিশ জানায়, রোববার ভোররাত আড়াইটার দিকে ঝিকরগাছা বাজারের রাজাপট্টিতে হানা দেয় একদল ডাকাত। এসময় তারা পর্যায়ক্রমে নৈশপ্রহরী আব্দুস সামাদ, ইউসুফ আলী নেদা, কামাল হোসেন ও সুকুমার বিশ্বাসকে বেঁধে ফেলে ও স্কসটেপ দিয়ে মুখে পেঁচিয়ে ফেলে। পরে তারা ঝিকরগাছা অটো ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কসপ'র তালা কেটে ১৫টি নতুন ও ৮টি পূরাতন ব্যাটারিসহ সর্বমোট ২৩ টি হ্যামকো ব্যাটারী ( ট্রাকের ও আইপিএস এর ব্যাটারী) লুট করে নিয়ে যায়। এগুলো আনুমানিক মূল্য আড়াই লক্ষ টাকা।

নৈশপ্রহরী সুকুমার বিশ্বাসের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ডাকাতরা সংখ্যায় ছিল চারজন। তাদের দু'জন নৈশপ্রহরীদের পর্যায়ক্রমে বেঁধে ফেলে বাকি দু'জন লুট করা ব্যাটারি পিকআপ ভ্যানে তোলে। এছাড়া পাশের শাওন ফার্নিচারের শোরুম, একটি সিগারেট কোম্পানীর গোডাউন ও সঞ্জয় শীলের দোকান সানভিকা এন্টারপ্রাইজের শার্টারের তালা ভাঙলেও মালামাল নেয়নি ডাকাতরা।

খবর পেয়ে টহলপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নৈশপ্রহরীদের উদ্ধার করে। এসময় আব্দুস সামাদকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ডাকাতি হওয়া দোকানের স্বত্তাধিকার খাইরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির বিষয়টা প্রথমে নৈশপ্রহরীদের সুপারভাইজার সুকুমার মোবাইলে জানায়। পরে দোকানে গিয়ে দেখি আনুমানিক ২৫টি ব্যাটারি নিয়ে গেছে।

ঝিকরগাছা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন ভক্ত জানান, ঝিকরগাছা বাজারের চার নৈশপ্রহরীকে বেধে রেখে একটি ব্যাটারির দোকানে ডাকাতি হয়েছে। এসময় নৈশপ্রহরী সামাদের মৃত্যু হয়। থানা পুলিশ, পিবিআই, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সম্মিলিতভাবে এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের কপালে আঘাতের চিহ্ন ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আর কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী দোকানী খাইরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: