বৈরী আবহাওয়া: জেলেদের মুখে হতাশার ছাঁপ

আল আমিন, কলাপাড়া (কুয়াকাটা) | ১৫ আগস্ট ২০২২ ০০:০৯

সংগৃহীত সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে কলাপাড়ায় মাঝারী থেকে হালকা থেমে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।বাতাসের চাপ অনেকটা বেড়েছে।পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত অব‌্যাহত রয়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান,বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বাতাসের চাপ আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়ার এই অবস্থা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে,নদ-নদী পানির উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’দফা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় নিম্নাঞ্চল।

গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের। অনেকের চুলোয় জলেনি উনুন। মানবেতর জীবন যাপন করছেন এলাকার কয়েক হাজার পরিবার। ইতিমধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। 

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস সকল মাছধরা ট্রলারসমূকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।তবে প্রায় শতাধিক মাছধরা ট্রলার গভীর সমুদ্রে রয়েছে বলে জানিয়েছে আলীপুর মৎস্য বন্দর আড়ৎ সমিতির সভাপতি মোঃআনসার উদ্দিন মোল্লা। 

তিনি আরও জানান,বর্তমান পরিস্থিতিতে মসৎখ্যাত হুমকির মুখে,বছরে ৩৬৫ দিনের কিছু সময় মসৎ শিকারের জন্য উপযোগী হলেও বাকি সময় বেশ সংকটের।বৈরী আবহাওয়া,ঘন কুয়াশা,ধাপে ধাপে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সহ বিভিন্ন সময় জেলেদের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকতে হয়।

৬৫ দিন সামুদ্রিক মাছ আহরনের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল,তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৈরী আবহাওয়ার,অন্যদিকে তেলের দাম দ্বিগুন।সবমিলিয়ে চরম হতাশায় জেলেরা।

অন্যদিকে টানা দুই সপ্তাহ আবহাওয়া খারাপ থাকায় হাট বাজার করে ঘাটে নোঙ্গর করে আছে শতাধিক ট্রলার।

এফবি সেফালী বোটের মালিক মোঃশাহিন জানান,মাছ আহরণে এখুনি উপযুক্ত সময় এই সময়টায় মাছ ধরতে না পারলে আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবো।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: