ডেমরার আমুলিয়ায় জমে উঠেছে জমজমাট পশুর হাট

ডেমরা (ঢাকা) প্রতিনিধি: | ৫ জুলাই ২০২২ ১১:০১

সংগৃহীত সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠেছে রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়ার কোরবানির পশুর হাট।কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় গরু-ছাগলে জম-জমাট হয়ে উঠেছে ডেমরার দুটি পশুর হাট একটি সারুলিয়া অন্যটি আমুলিয়ায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তদারকি থাকায় এবার আমুলিয়ার গরুর হাটে মানসম্পন্ন পশু পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি ক্রেতারা।

সোমবার (৪ জুলাই)বিকেলে সরেজমিনে রাজধানীর আমুলিয়ার হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাটে পশু আসছে।ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে পশু দেখছেন এবং পর্যবেক্ষন করছে দরাদরি।

রাজধানী ডেমরার প্রাণকেন্দ্র স্টাফ কোয়ার্টারের আমুলিয়া মডেল টাউন। এখান থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ গরু কিনে থাকেন।তবে এবারের বন্যায় খামারিরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন চড়া দামে গরু বিক্রি করে।তবে ঈদকে ঘিরে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক খামারি।এতে একদিকে মরার উপর খাড়ার ঘা।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আসা এনায়েত নামের এক ব্যাপারী বলেন,গত কয়েক দিনের

বন্যার পানিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা ডুবে থাকার কারণে এবার খামারিরা সব গরু ঢাকায় আনে নি।দাম কেমন হবে তার উপর নির্ভর করে গরু কম বেশি হাটে উঠানোর কথা জানান এই ব্যাপারী।

ময়নসিংহ এর রুবেল হোসেন নামে ব্যাপারী জানান,পানির কারনে এবার আগে বাগে গরু ঢাকা নিয়ে আসা।এই ঈদে গরুর দাম সঠিক পেলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে বলে জানান এই ব্যাপারী।

ডিএসসিসির ৭০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ঢাকা ডেমরায় ২ টি পশুর হাট রয়েছে।তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট

আমুলিয়া মডেল টাউনের পশু হাট। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তদারকির জন্য আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। আশা করছি এবার পুষ্টি মানসম্পন্ন পশু পাওয়া যাবে এসব হাট থেকে।

সম্প্রতি ৩৫ লাখ টাকায় আমুলিয়া মডেল টাউন পশুর হাটের ইজারা নেন নওশের আলী সাদ।তিনি জানান,ঢাকা জেলার মধ্যে অন্যতম খোলামেলা ও স্বাস্থ্য সম্মত মনোরম পরিবেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ এ হাটের সব প্রস্ততি সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় খামারিসহ ব্যাপারিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন।আগামী বুধবার থেকে হাট আরও জমজমাট হবে বলে তিনি জানান।আশা করছি এবার কোরবানির পশুর কোন সংকট হবে না। স্বাস্থ্য বিধির কথা চিন্তা করে হাটের প্রবেশদারে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধৌত করার বেসিন, হ্যান্ড সানিজাইটার।সেই সাথে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার মাইকের ব্যবস্থা ও জাল টাকার নোট শনাক্ত করার জন্য মেশিনের ব্যবস্থা করেছে হাট কর্তৃপক্ষ। অসুস্থ্য গরু-ছাগলের সনাক্ত করার জন্য রয়েছে ভেটেরিনারী ডাক্তার।পশুহাটটি সার্বক্ষণিক প্রশাসনের তদারকিতে আছে ফলে এখানে পকেটমার, দালাল ও ছিনতাইকারী মুক্ত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: