নিজ দলের নেতাদের হাতে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার ছাত্রলীগ নেতা

আসিফ আজাদ সিয়াম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | ১৯ আগস্ট ২০২২ ০৮:৫৯

সংগৃহীত সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের এক নেতাকে মারধর করে চল্লিশ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে একই সংগঠনের চার নেতার বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার মারধরের শিকার ওই ছাত্রলীগ নেতা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মুশফিকুর রহমান প্রান্ত, মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলম সাকিব, শাহ মখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামীম শিকদার, সৈয়দ আমীর আলী হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জুয়েল হোসেন এবং শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মিম মাজেদ। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত’র অনুসারী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী মহারাজ হচ্ছে সম্প্রতি বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময়ের অনুসারী।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা জানান, বুধবার রাত আটটার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে বসে ছিলেন। এসময় আমীর আলী হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জুয়েল কথা বলবে প্রথম বিজ্ঞান ভবনের পশ্চিম পাশে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে চাকু, পিস্তল, রড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন শামিম সিকদার, মীম মাজেদ, মুশফিকুর রহমান প্রান্ত ও সাকিব। সেখানে যাওয়া মাত্রই তারা মহারাজকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে জুয়েল মহারাজের শরীরে পিস্তল ঠেকিয়ে তার সঙ্গে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা মহারাজ বলেন, আমি দোকান করার জন্য সম্প্রতি ৪০ হাজার টাকা এনেছিলাম। গত মঙ্গলবারে আমি ব্যাংক থেকে টাকাগুলো উত্তোলন করি। ওরা আমাকে মারধর করে টাকাগুলো নিয়ে গেছে। আমি বিষয়টি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। এছাড়া প্রক্টর দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম শিকদার বলেন, আমাদের এক ছোট বোনকে উত্যক্ত করেছিল। এজন্য তাকে ডেকে কথা বলছিলাম। কথা বলার এক পর্যায়ে উচ্চ্যবাচ্য শুরু করে মহারাজ। পরে আমাদের সাথে হাতাহাতি হয়। তবে ছোট বোন কোন বিভাগে পড়ে এমন প্রশ্নে তিনি তাৎক্ষণিক জবাব দিতে পারেন নি।

আরেক অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মুশফিকুর রহমান প্রান্ত বলেন, আমাদের এক ছোট বোনকে উত্যক্ত করেছিল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটায়। এ কারণে তাকে ডেকে আনা হয়েছিল। কথা বলার সময় সে উচ্চ্যবাচ্য করে। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহারাজের কাছে খাওয়ার টাকাই থাকে না। সেখানে ৪০ হাজার টাকার তো প্রশ্নই আসে না। এটি পুরোপুরি বানোয়াট ও মিথ্যা। অভিযুক্ত বাকী দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত বলেন, আমরা সবাই এক সাথে রাজনীতি করি। তবে সবাই ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ভাইয়ের রাজনীতি করি। সেক্ষেত্রে আমরা সবাই কিবরিয়া ভাইয়ের অনুসারী।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিষয়টি শুনেছি। জুনিয়রদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। দু-পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দিবো।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। আজ বন্ধ থাকায় কারও বক্তব্য নিতে পারি নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা মিটিংয়ে বসেছি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: