জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাবিতে মশাল মিছিল

আসিফ আজাদ সিয়াম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | ৮ আগস্ট ২০২২ ২৩:১৮

সংগৃহীত সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহ।

সোমবার (৮ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে শহীদ জোহা চত্বরের সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাফ্রন্টের সংগঠন ফুয়াদ রাতুল বলেন, তেল গ্যাস বিদ্যুতের মত বিষয় এ মূল্যবৃদ্ধি করতে হলে গণ শুনানি করতে হয়। যা এই সরকার করে নি। তেলের সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সব কিছু জড়িত। প্রত্যেক সাধারণ মানুষ এর ভুক্তভোগী। সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে নি কিন্তু সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু দিন আগে রাজশাহীতে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার দুই জন কৃষক জমিতে সেচ দিতে না পেরে আত্নহত্যাও করেছে। সামনে এগুলো আরো বাড়বে৷ তেলের দাম বিশ্বে কমলেও বাংলাদেশে বেড়েছে। অর্থ সংকটের পিছনে দায়ী হচ্ছে অর্থ পাচার। আমাদের দেশে কর্মসংস্থান হয় নি৷ শিল্পের কাঁচামাল না এনে তারা অর্থ পাচার করেছে৷ বর্তমানে রাষ্ট্র এই সংকট নিরসনে পাঁচার কারীদের ফিরিয়ে আনছে না। তাদের না ধরে এ দায় আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

রাবি শাখা ছাত্র ফ্রেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, ‘তেলের দাম মধ্য রাতে বাড়ানো হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের সহযোদ্ধাদের উপর তাদের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে হামলা করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। যারা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবে এই সরকার যেভাবে হোক তাদের দমন করবে৷ তারা উন্নয়নের বুলি বলে লুটপাট জারি রেখে জনগনের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে৷ সরকার জনগনের জীবন অতিষ্ঠ করে লুটপাট জারি রেখেছে। এ কারণে তারা তেল, অকটেল, ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। এ কারণে সরকার জনগনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে’।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহবায়ক রিদম শাহরিয়ার বলেন, ‘ সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪টাকা, পেট্রল ৪৪ , অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এর কারণ হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর৷ তারা সেটি উন্মোচিত করতে চায় না। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়িয়ে টাকা লুট করে নিচ্ছে। অথচ যারা দেশের কোটি কোটি টাকা পাচার করে তাদের নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা নাই। জনগনের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আমাদের একত্রে রুখে দাঁড়াতে হবে’।

রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নে সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, ‘আমরা কেও পরিবার থেকে বিচ্ছন্ন নই। তাই আমারা জানি এই তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে আমাদের পরিবার, সমাজের উপর কি প্রভাব ফেলছে। আন্তজার্তিক বাজারে যেখানে তেলের দাম নিম্নমুখী সেখানে আমাদের দেশে জন মানুষের নাগালের বাহিরে। তাই এটি কোন ভাবেই ঠিক হয় নি৷ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের উপর সরকারের পেটুয়া বাহিনী হামলা চালায়’।

তিনি আরো বলেন, ‘এই সরকারের আমলে সাড়ে ছয় লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তারা এর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না৷ অথচ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তারা তাদের পেটুয়া বাহিনী লেলিয়ে দেয়। ছাত্রলীগ পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করে৷ এই অর্থনৈতিক দেউলিয়া থেকে বাঁচার জন্য সরকার জনসাধারণের উপর কোন কর আরোপ করতে পারে না’।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর রাবি শাখার সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, আজকে যে অবস্থায় দেশ চলে এসেছে সেখান থেকে বের হবার কোন উপায় নেই। এক পিকে হালদার এগারো হাজার কোটি টাকা পাচার করে কিন্তু তার কোন শাস্তি হয় না৷ অথচ মানুষ এর বিরুদ্ধে কথা বললে রাষ্ট্রীয় পেটুয়া বাহিনী হামলা চালায়, মামলা দেয়। আমাদের এখনই এর প্রতিরোধ করতে হবে। না হলে শ্রীলংকার থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী হবে।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর রাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় পাঁচটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: