জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে রাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রতিবাদ

আলিম খান ফারহান, রাবি প্রতিনিধি | ৭ আগস্ট ২০২২ ১৯:৩০

সংগৃহীত সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

আজ রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে প্যারিস রোডে এই প্রতিবাদ সভা করেন।

সংঘটনটির সংগঠক ফুয়াদ রাতুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অসীম দে, রঞ্জু শেখ, আশিকুর রহমান হৃদয়, ফুয়াদ রাতুল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন রাষ্ট্র কোন রকম শুমারি ছাড়াই হঠাৎ রাতের অন্ধকারে তেলের মূল্য ৫০% বৃদ্ধি করেছে। কোন সভ্য দেশ জনগণকে বিপদে ফেলে এমনটা করতে পারেনা। জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে পড়বেনা। শাকসবজি থেকে শুরু করে পরিবহন ভাড়া পর্যন্ত সমস্তকিছুর মূল্যবৃদ্ধি পাবে। অথচ মানুষের আয় বাড়েনি। ইতিমধ্যেই ২০% মুদ্রাস্ফীতিতে জনগণের জীবন রুদ্ধশ্বাস। শিক্ষার্থীদের খাবারের মূল্য ও মেস ভাড়া বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার পরিস্থিতি আরো অসহনীয় হয়ে উঠবে।

বক্তারা এ বছরের এপ্রিলে খাবারের বকেয়া পরিশোধ না করতে পারে কুয়েট শিক্ষার্থী অন্তুরায়ের আত্মহত্যা এবং মে মাসে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে কৃষক অভিনাথ মারান্ডি ও রবি মারান্ডির আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন এবার এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে।

বক্তারা আরো বলেন সরকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও আসল কারণ বেনিয়াদের অর্থ পাচার। জুন পর্যন্ত অর্থ বছরের আমদানি রপ্তানির হিসাবে দেখা গিয়েছে চাল গমের মতো খাদ্যপণ্যে আমাদানি খরচতো বাড়েইনি বরং ৪.৪% কমেছে। জ্বালানি তেলেও খরচ কমেছে ১১%। বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে প্রধানত শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির কারণে। অথচ তা অনুযায়ী শিল্পায়ন হয়নি, কাঁচামাল পরবর্তীতে পণ্য হিসেবে রপ্তানির পর রিজার্ভ আরো বর্ধিত হবার কথা ছিল, তা হয়নি। কেননা এসব পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার করা হয়েছে। সরকার এ পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা না করে উল্টো সাধারণ মানুষের ওপরে এর দায় চাপাচ্ছে। লুটেরাদের করা ক্ষতির ঘাটতি পূরণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে এমন এক সময়ে, যখন সারাবিশ্বে তেলের দাম কমছে।

বক্তারা আরো বলেন ২০১৪ সাল থেকে সারাবিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমতিতে ছিল। করোনাকালে জ্বালানি তেলে দাম সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছিলো। তখন দেশে তেলের দাম কমানো হয়নি। এই ৭ বছরে রাষ্ট্র ৪৩ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। শুধু করোনাকালেই মুনাফা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ সরকার আজ জ্বালানি খাতে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে নারাজ। বক্তারা মুনাফা কৃত ৪৩ হাজার কোটি টাকাকে সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা হিসেবে উল্লেখ করে এ টাকার হিসাব চান। এছাড়াও বক্তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি কম্পানি গুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে ১২ বছর ৮৬ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন এই প্রক্রিয়া এখনো বিদ্যমান। সরকার আর্থিক সংকটের কথা বলে জনগণের পেটে লাথি মারলেও তাদের দোসরদের স্বার্থ ঠিকই বহাল রেখেছে।

IMF এর ঋনের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন। প্রতিষ্ঠনটি যখন ব্যাংক ঋনের সুদ বৃদ্ধির শর্তের কথাও বলেছিলো সরকার তা মানেনি ব্যাবসায়ীদের ক্ষতি হবে বলে। অথচ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বেলায় তারা এমন ভান করছে যেন সমস্ত দায় IMF এর। অথচ গোটা সংকট সৃষ্টিই হয়েছে সরকার ও তাদের দোসরদের লুটপাটের কারণে। কিন্তু ঋন নিলে তার প্রতিটা পাই চুকাতে হবে সাধারণ জনগনকে। তারা বলেন ঋন নিয়ে লুটপাট করে কোন দেশ সমৃদ্ধ হয়না। অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিমুখী হওয়া লাগে।

সবশেষে বক্তরা অবিলম্বে তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে দাবি করেন। এবং ধনীর লুটপাটের দায় গরীবের ওপরে চাপানোর এই প্রহসনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: