ঢাবি ছাত্রলীগের কর্মীদের নির্যাতনে জ্ঞান হারালেন শিক্ষার্থী

সময় ট্রিবিউন | ২৭ জানুয়ারী ২০২২ ১৫:১৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোগো-ফাইল ছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোগো-ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে হলের অতিথিকক্ষে ডেকে নিয়ে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে তিন সদ্যসের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জোর করে তাঁকে হলের অতিথিকক্ষে ভুক্তভোগীকে যেতে বলেন ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। তাঁরা তাঁকে বাতির দিকে তাকিয়ে থাকতে বলেন। এতে তিনি জ্ঞান হারান।

ভুক্তভোগী হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) ছাত্র আকতারুল ইসলাম। জ্ঞান হারানোর পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রংপুরের সন্তান আকতারুল।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান রাজু, ইতিহাস বিভাগের ছাত্র হৃদয় আহমেদ ওরফে কাজল, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র ইয়ামিম ইসলাম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ওমর ফারুক ওরফে শুভ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র সাইফুল ইসলাম এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র সাইফুল ইসলাম ওরফে রোহান। তাঁরা সবাই দ্বিতীয় বর্ষের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।

প্রাধ্যক্ষকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ওই ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগী আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও জোর করে তাঁরা আমাকে বিজয় একাত্তর হলের অতিথিকক্ষে ডেকে নিয়ে বাতির দিকে তাকিয়ে থাকতে বলেন। বাতির দিকে তাকানোর পর আমি চেতনা হারিয়ে ফেলি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আবেদন জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ন্যূনতম অসদাচরণের সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিজয় একাত্তর হল প্রশাসনকেও ঘটনার তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

হলটির প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল রাত তিনটায় তিনি নিজের বাসা থেকে হলে যান। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে তাঁকে অভয় দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তে হলের আবাসিক শিক্ষক জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেবে হল প্রশাসন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: