প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অভিযোগ করাপশন ইন মিডিয়ার বিরুদ্ধে

সময় ট্রিবিউন | ১০ মে ২০২২ ২২:৪৮

ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত করাপশন ইন মিডিয়া নামের ফেসবুক পেজটি লন্ডন থেকে পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে ফেসবুক পেজটি। ভিত্তিহীন মানহানিকর ভিডিও তৈরী করে সংবাদ মাধ্যমের সিনিয়র ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুন্ন করছে এর সাথে জড়িত ব্যক্তিরা। তথ্য বিকৃত করে প্রচার করে ছড়িয়ে দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুক পেজ ছাড়াও করাপশন ইন মিডিয়া ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিতর্কিত ভিডিও প্রচার করে দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের চরিত্র হনন এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

করাপশন ইন মিডিয়ার অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রথম নির্বাচিত নারী সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শাবান মাহমুদ এবং দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক কাজী এরতেজা হাসানসহ অনেক সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম কর্মী।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেছেন, তাদের ঘায়েল করতে করাপশন ইন মিডিয়াকে ব্যবহার করছে প্রতিপক্ষের লোকজন। করাপশন ইন মিডিয়া নিজেরাই দুর্নীতে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিকরা।

করাপশন ইন মিডিয়ার অপপ্রচারের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইবার ক্রাইম তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আহসান হাবিব বলেন,দেশের বাইরে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারী কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। করাপশন ইন মিডিয়া তার একটি। এই পেজের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য আছে আমাদের হাতে। কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন। তবে আমরা আমাদের বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করছি। বিতর্কিত এই পেজে লাইক এবং শেয়ার থেকে বিরত থাকতে বলি।'

গোয়েন্দ সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, লন্ডন থেকে করাপশন ইন মিডিয়ার হয়ে সরাসরি কাজ করছেন জাওয়াদ নির্ঝর এবং আবদুল বাকীসহ চারজন। জাওয়াদ এবং বাকী এক সময় বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল গাজী টিভিতে কাজ করেছে। এরআগে দিগন্ত টেলিভিশনে কাজ করা বাকী সবশেষ এসএটিভি থেকে বরখাস্ত হয়। জাওয়াদ বরখাস্ত হয় জিটিভি থেকে। এখন তারা এক হয়ে লন্ডনে বসে দেশের সাংবাদিকদের চরিত্র হনন করছে। দেশের সংবাদ মাধ্যমে কাজ করা বেশ কিছু সাংবাদিক করাপশন ইন মিডিয়াকে তথ্য দেয় বলেও জানিয়েছে এই গোয়েন্দ সূত্র।

করাপশন ইন মিডিয়াসহ বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা। কারণ এসব পোস্টে লাইক অথবা শেয়ার করলে বিপদে পড়তে পারেন যে কেউ।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: