‘শিক্ষকরা যখন প্রশাসক হয়ে ওঠেন, তখন আর শিক্ষক থাকেন না তারা’

সময় ট্রিবিউন | ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ২১:৫৫

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা, ইনসেটে ঢাবি অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান-ফাইল ছবি শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা, ইনসেটে ঢাবি অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান-ফাইল ছবি

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের নিয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কোনো চিন্তা নেই। এ কারণেই তিনি ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে কি না। প্রশাসন কেন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে দমন-পীড়ন করে সে বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থাকতে তো পুলিশ ক্যাম্পাসে আসার কথা না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পিরিটের সঙ্গে এটা তো যায় না। প্রশাসনে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই থাকেন। প্রশাসনের শিক্ষকরা যখন শুধু প্রশাসক হয়ে ওঠেন, আর শিক্ষক থাকেন না তখনই এ ধরনের ঘটনা তারা ঘটাতে পারেন। প্রশাসনে যারা থাকেন, তারা যদি নিজেদের শিক্ষক হিসেবে চিন্তা করেন তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটে না।'

তিনি বলেন, 'সবাই তো তাদের শিক্ষার্থী। এ রকম ভাবলে এসব সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করা যায়। যে সব সমস্যা নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে সেগুলোর সবই সমাধানযোগ্য। এমন তো না যে সেগুলোর সমাধান করা যায় না। এই সদিচ্ছা শিক্ষকদের নেই, কারণ তারা নিজেদের শিক্ষক মনে করে না। তারা নিজেদের প্রশাসক মনে করে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রশাসক হিসেবে তারা সেখানে কাজ করে। যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের যে দূরত্ব তৈরি হয় সেই দূরত্বের প্রকাশগুলো এভাবে ঘটে। তখন পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে।'

অধ্যাপক তানজিম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা দাবিগুলো মেনে নিলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরই একই অবস্থা। হলগুলোর ৮০ শতাংশ আসন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন দখল করে রাখে। এগুলো তাদের দখলে থাকবে কেন, হলগুলোর অনিয়ম দেখা তো প্রশাসনের দায়িত্ব। হলগুলোতে যারা প্রভোস্ট হন, তারা নিজেদের প্রশাসক ভাবেন শিক্ষক না ভেবে। যার ফলে এই ধরনের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে ওঠে।'

তিনি আরও বলেন, 'শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে সেটি এমন পর্যায়ে গেছে যে তারা এখন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি করছে। সমস্যাটি এই পর্যায়ে আসার কথা না, যদিও খুব সহজেই সমাধান করা যেত শিক্ষক হিসেবে, প্রশাসক হিসেবে না। আমাদের দেশের প্রশাসকরা খুবই আমলাতান্ত্রিক এবং সমঝোতার চাইতে শক্তির ব্যবহার করতে তারা পছন্দ করে। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক তো শক্তির সম্পর্ক না এটা হলো ভালোবাসার সম্পর্ক। এই ভালোবাসাটুকু না থাকলে শিক্ষকের যে নৈতিকতা সেটাই তো থাকে না।'



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: